খাদ্য অধকিার আইন প্রণয়নরে তাগিদ

ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় সরকারের নানামুখী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলে গত এক দশকে খাদ্য নিরাপত্তায় বড়ো অগ্রগতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশের প্রায় ৪ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। এর মধ্যে অর্ধেক জনসাধারণ সামান্য পরিমাণ খাবার খেয়ে জীবনধারণ করে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত ‘খাদ্য অধিকার আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে অতিদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রবিবার রাজধানী পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। খাদ্য অধিকারের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ইস্যুটিও সভায় গুরুত্ব পায়। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।

বক্তারা বলেন, সমাজে আয় বৈষম্যের কারণে শীর্ষ ১০ ভাগ ধনী পরিবারের আয় মোট জাতীয় আয়ের ৩৮ শতাংশ এবং নিম্নে অবস্থানকারী ১০ ভাগ অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী মোট জাতীয় আয়ের মাত্র ১ শতাংশের মালিক। এ পরিস্থিতি দেশে সব মানুষের মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিত্সা) প্রতিষ্ঠার বিষয়কে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলেছে।

বক্তারা বলেন, উত্তরবঙ্গসহ দারিদ্র্যপ্রবণ ৯ জেলায় ও এর বাইরে নদীভাঙ্গন এলাকা, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকা, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগরের বস্তিবাসী, চা বাগানের শ্রমিক, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়, হিজড়া সম্প্রদায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানবেতর জীবনযাপন করে। এদের খাদ্য ও পুষ্টির দিকে বিশেষ মনযোগ দিতে এবং তা নিশ্চিতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন জরুরি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইকো কো-অপারেশনের অ্যাডভোকেসি এক্সপার্ট আরশাদ সিদ্দিকী, ইআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম প্রমুখ।